Menu

সোনাতলায় ক্ষেতে ধান বিপাকে কৃষকঃ শ্রমিক সংকটে জমির অর্ধেক ধান যাচ্ছে ঘরে তুলতে

আব্দুর রাজ্জাক, সোনাতলা (বগুড়া) প্রতিনিধিঃ বগুড়ার সোনাতলা উপজেলায় এবার কৃষক বোরো ধান ফলে মহা বিপাকে, ধান কাটার শ্রমিক না পাওয়ায় অর্ধেক ধান দিয়ে ধান কাটতে হচ্ছে।
দেশে বোরো ধান কাটার শেষ সময় চলছে। বোরো ধানে কৃষক বেশ ভালো ফলনের আশা করলেও ছত্রাক জাতীয় রোগে ধানখেত নষ্ট হওয়ায় সেই প্রত্যাশা আর থাকছে না।
উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়ন ঘুরে দেখা গেছে, বোরো ধানের বাম্পার ফলন হলেও কৃষক মরিয়া হয়ে ঘুরছে শ্রমিক সংকটে। ন্যায্য মজুরি দিয়েও সময়মতো শ্রমিক পাচ্ছে না তারা।

সোনাতলা উপজেলার সদর ইউনিয়নের সুজাইতপুর গ্রামের মৃত চাঁন মিয়া প্রাং এর ছেলে কৃষক আবেগ সুরে দেলোয়ার বলেন,
এত কষ্ট করে রোদে পুড়ে, বৃষ্টিতে ভিজে জমির আইল বাঁধা থেকে শুরু করে সার ছিটানো, ধান রোপন, কীটনাশক স্প্রে করা ইত্যাদি। নিজস্ব শ্রমের কোনো মূল্য বাদ দিয়ে।
অতিরিক্ত বিদ্যুতের খরচ, তেল ডিজেলের বাড়তি দামেও আজ কৃষক পাচ্ছে না সময়মতো শ্রমিক এবং ধানের ন্যায্য মূল্যও। বর্তমানে একজন শ্রমিকের মজুরি রয়েছে সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত জন প্রতি ৫শ থেকে ৭শ টাকা। বিঘা চুক্তি দিলে প্রতি বিঘা জমির ধান কাটতে চায় সাড়ে চার হাজার থেকে ৫হাজার টাকা। অবশেষে ১০ মে মঙ্গলবারে শ্রমিকদের অর্ধেক ধান দিয়ে কেটে নিতে হয়েছে। সেখানে সব মিলিয়ে ১৬ আনার মধ‍্যে আমার ৬আনা ধান ঘরে যাবে। তাতে প্রায় সাড়ে চার মন ধান পেতে পারি। আমার সব মিলিয়ে খরচ হয়েছে প্রায় ৫ হাজার টাকা, আমি বর্তমানে ধান বিক্রি করে পাবো সাড়ে তিন হাজার।
সেই ধান আবার বাড়িতে তোলার পরে ধানমাড়াই কল সময়মত পাওয়া যায়না। পরে বাজারে ধান বিক্রি করতে গেলে ধান ব্যাপারীরা ধান দেখে নানা রকম টালবাহানা করে এবং শেষে ধানের দাম প্রতি মন ছয়শ টাকা থেকে সর্বোচ্চ আটশ টাকায় বিক্রি করতে আমাদের।

এ ছাড়াও বৈরী আবহাওয়ায় নানান জটিলতায় নিয়ে জমিতে ধান ফলাতে হয়। এ যেন মরার ওপর খড়ার ঘা। আমাদের মত কৃষকদের আগামীতে জমিতে ধান ফলানো সম্ভব নয়।
উন্নত প্রযুক্তি হারভেস্টার মেশিনের কথা বললে তিনি জানান তাদের মাঠে হারভেস্টার মেশিন চোখে পড়েনি ।

No comments

Leave a Reply

1 + twenty =

সর্বশেষ সংবাদ