Menu

সোনাতলায় চুরি ঠেকাতে রাত জেগে পেঁয়াজ ক্ষেত পাহাড়া দিচ্ছে কৃষক!

সোনাতলা সংবাদ ডটকম (বদিউদ-জ্জামান মুুুকুল, সোনাতলা বগুড়া): চলতি বছর পেঁয়াজের মূল্য অস্বাভাবিক বৃদ্ধি পাওয়ায় বগুড়ার সোনাতলায় মাঠ থেকে একের পর এক পেঁয়াজ চুরির ঘটনা ঘটছে। পেঁয়াজ চুরি রোধে ওই উপজেলার কৃষকেরা তাদের উৎপাদিত পেঁয়াজ ক্ষেত পাহাড়া দিচ্ছে।

বিশেষ করে যমুনা নদীর চরাঞ্চলের কৃষকেরা জমিতে পলেথিন দিয়ে কুঁড়ে ঘর তৈরি সেখানে রাত্রিযাপন করছে। কৃষকদের চোখে ঘুম নেই, অপেক্ষায় রয়েছে জমিতে উৎপাদিত পেঁয়াজ বাজারে বিক্রি করে নগদ অর্থ ঘরে তুলতে। সেই সাথে চোরের হাত থেকে পেঁয়াজের ক্ষেত রক্ষা করার জন্য।

উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, চলতি বছর বগুড়ার সোনাতলা উপজেলার ১টি পৌরসভা ও ৭টি ইউনিয়নে প্রায় ২৫০ হেক্টর জমিতে কৃষক পেঁয়াজ বপন করেছে। প্রতিবছরের ন্যায় এবার পেঁয়াজের ফসল বাম্পার ফলনের ব্যাপক সম্ভাবনা রয়েছে।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মোঃ মাসুদ আহমেদ জানান, কৃষক দুই পদ্ধতিতে পেঁয়াজ চাষ করে থাকে। এর একটি হচ্ছে বীজ বপণের মাধ্যমে অপরটি চারা রোপনের মাধ্যমে। বীজ বপন থেকে আড়াই তিন মাসের মধ্যে কৃষক পেঁয়াজ উত্তোলন করতে সক্ষম হয়।

আর চারা রোপনের মাধ্যমে দেড় থেকে দুই মাসের মধ্যে পেঁয়াজ উত্তোলন করতে পারে। পেঁয়াজ রান্নার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে থাকে। পেঁয়াজ ছাড়া তরিতরকারী শাকসবজি রান্না করা সম্ভব হয় না।

গতকাল সরজমিনে উপজেলার সরলিয়া, খাবুলিয়া, মহব্বতেরপাড়া, আউচারপাড়া, ভিকনেরপাড়া, জন্তিয়ারপাড়া, খাটিয়ামারী, শিমুলতাইড়, দিঘলকান্দী, নওদাবগা, কর্পূর, মূলবাড়ী, ফাজিলপুর, মহিচরণ, বালুয়াহাট, মধুপুর, হরিখালী, পাকুল্লা, চারালকান্দি এলাকায় গিয়ে দেখা গেছে, প্রতিটি এলাকায় কৃষক জমি থেকে পেঁয়াজ চুরি রোধে পলেথিন দিয়ে ঘর বেঁধে পেঁয়াজের জমিতে রাত জেগে পেঁয়াজ পাহাড় দিচ্ছে।

এ বিষয়ে সোনাতলা উপজেলার নওদাবগা এলাকার সোনাউল্লা জানান, এবার তিনি ২ বিঘা জমিতে পেঁয়াজ চাষ করেছেন। ইতিমধ্যেই ১০ শতক জমির পেঁয়াজ বাজারে বিক্রি করে তিনি ৬০ হাজার টাকা উপার্জন করেছেন। খাবুলিয়া এলাকার শামছুল হক জানান, এবার তিনি ৫ বিঘা জমিতে পেঁয়াজ রোপন করেছেন। ইতিমধ্যেই তিনি দেড় বিঘা জমির পেঁয়াজ বিক্রি করে প্রায় লক্ষাধিক টাকা উপার্জন করেছেন।

এদিকে ওই উপজেলার কৃষকেরা জানান, প্রতি রাতেই কোন না কোন এলাকায় পেঁয়াজ চুরির ঘটনা ঘটছে। সম্প্রতি উপজেলার মধ্যদিঘলকান্দী এলাকার এক কৃষকের দুই শতক জমির পেঁয়াজ চুরি করে নিয়ে গেছে সংঘবদ্ধ চোরের দল। এদিকে খাবুলিয়া, জন্তিয়ারপাড়া ও আউচারপাড়া চরের ৬ জন কৃষকের জমি থেকে গত বুধবার দিবাগত রাতে পেঁয়াজ চুরি ঘটনা ঘটে।

এ দিকে বগুড়ার সোনাতলা উপজেলার বিভিন্ন হাটে বাজারে পুরাতন পেঁয়াজ আড়াইশ’ টাকা ও নতুন পেয়াজ দেড় থেকে ১৮০ কেজিতে বিক্রি হচ্ছে।
প্রশাসনের পক্ষ থেকে বাজার মনিটরিং না থাকায় এক শ্রেণীর মুনাফালোভী পেঁয়াজ ব্যবসায়ী পেঁয়াজের কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করে ফায়দা লুটছে।
উল্লেখ্য, চলতি বছর পেঁয়াজের মূল্য অস্বাভাবিক হারে বৃদ্ধির কারণে জমি থেকে পেঁয়াজ চুরির ঘটনা ঘটছে বলে সচেতন মহল জানান।

No comments

Leave a Reply

four × 5 =

সর্বশেষ সংবাদ