Menu

সোনাতলায় ছাত্র-ছাত্রীতে ভরপুর থাকলেও ১৫ বছরেও পাঠদানের অনুমতি পায়নি ইউনিহেল্প স্কুল!

সোনাতলা সংবাদ ডটকম (বদিউদ-জ্জামান মুকুল, সোনাতলা): বগুড়ার সোনাতলা উপজেলার দিগদাইড় ইউনিহেল্প হাইস্কুলে ছাত্র-ছাত্রীতে টুইটুম্বর হলেও দীর্ঘ প্রায় ১৫ বছরেও ওই প্রতিষ্ঠানটিতে পাঠদানের অনুমতি দেয়নি মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড রাজশাহী। তবে প্রতিবছর ওই প্রতিষ্ঠানের জেএসসি ও এসএসসি পরীক্ষার্থীদের পরীক্ষা দিতে হয় অন্য বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী হয়ে।

বগুড়ার সোনাতলা উপজেলা সদর থেকে প্রায় ১৭ কিলোমিটার দক্ষিণ পশ্চিমে বেশ মনোরম পরিবেশে অবস্থিত দিগদাইড় ইউনিহেল্প হাইস্কুল। ২০০৪ সালে এলাকার গন্যমান্য শিক্ষানুরাগী ব্যক্তিবর্গের প্রচেষ্টায় প্রতিষ্ঠিত হয় দিগদাইড় ইউনিহেল্প হাইস্কুল।

অপরদিকে একই ক্যাম্পাসে ১৯৩০ সালে প্রতিষ্ঠিত হয় দিগদাইড় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। একই গন্ডির মধ্যে অবস্থিত দুটি প্রতিষ্ঠান। তাই উভয় প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা প্রত্যহিক সমাবেশ সহ খেলাধুলা ও শরীরচর্চা একই মাঠে করে থাকে।

প্রথমে হাতে গোনা কয়েকজন শিক্ষার্থী নিয়ে প্রতিষ্ঠানটির পদযাত্রা শুরু করলেও বর্তমানে ওই প্রতিষ্ঠানে প্রথম শ্রেণী থেকে ১০ম শ্রেণী পর্যন্ত প্রায় ৫ শতাধিক শিক্ষার্থী অধ্যয়নরত। শিক্ষক কর্মচারী রয়েছেন ২৫ জন।

২০১২ সালে ওই প্রতিষ্ঠানের ৩৩ জন পিএসসি পরীক্ষায় অংশ নিয়ে ৩৩ জনই জিপিএ-৫ পেয়েছে। এছাড়াও ২০১৩ সালে ৩২ জনের মধ্যে ৩০ জন, ২০১৪ সালে ৩৭ জনের মধ্যে ৩৫ জন, ২০১৫ সালে ৩৮ অংশ নিয়ে ৩৮ জনই জিপিএ-৫ পেয়েছে।

২০১৬ সালে ২৫ জন অংশ নিয়ে ২০ জন, ২০১৭ সালে ৩০ জন অংশ নিয়ে ২৫ এবং ২০১৮ সালে ৪৮ জন শিক্ষার্থী অংশ নিয়ে ৪৮ জন জিপিএ-৫ পেয়েছে।

এদিকে গত ২০১২ সালে ওই প্রতিষ্ঠানের ২০ জন শিক্ষার্থী জুনিয়র স্কুল সার্টিফিকেট পরীক্ষায় অংশ নিয়ে ১০ জন জিপিএ-৫ পেয়েছে। ২০১৩ সালে ২২ জন অংশ নিয়ে ১২ জন, ২০১৪ সালে ২৬ জন অংশ নিয়ে ২১ জন, ২০১৫ সালে ২৫ জন অংশ নিয়ে ২২ জন, ২০১৬ সালে ২৪ জন অংশ নিয়ে ২০ জন, ২০১৭ সালে ২০ জন অংশ নিয়ে ১৭ জন এবং ২০১৮ সালে ২০ জন অংশ নিয়ে ১৫ জন জিপিএ-৫ পেয়েছে।

ফলাফলে অন্য প্রতিষ্ঠানের চেয়ে শীর্ষে অবস্থান করলেও দীর্ঘ দিনেও প্রতিষ্ঠানটিতে পাঠদানের অনুমতি না পাওয়ায় শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা হতাশায় পড়েছে। অপরদিকে প্রতিষ্ঠা লগ্ন থেকে অদ্যবধি ওই প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের অন্য প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে জেএসসি ও এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নিতে হয়।

এ বিষয়ে স্থানীয় দিগদাইড় ইউপি চেয়ারম্যান মোঃ আলী তৈয়ব শামীম, মহিচরণ বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয়ের সাবেক প্রধান শিক্ষক দৌলতজামান জানান, প্রতিষ্ঠানটি দীর্ঘদিনেও পাঠদানের অনুমতি না পাওয়ায় এবং এমপিওভুক্ত না হওয়ায় শিক্ষক কর্মচারীরা হতাশায় রয়েছে।

এ বিষয়ে স্থানীয় লোকজন জানান, প্রতিষ্ঠা লগ্ন থেকে বিশিষ্ট শিক্ষানুরাগী মোঃ শাহনুর ইসলাম সাজু শিক্ষক-কর্মচারীদের বেতন ভাতা বহন করে থাকেন।

এ বিষয়ে অত্র প্রতিষ্ঠানের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান মোঃ শাহনুর ইসলাম সাজুর সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, ২০০৪ সালে ২৫শে ডিসেম্বর প্রতিষ্ঠানটি প্রতিষ্ঠিত। অত্র প্রতিষ্ঠানটি বগুড়া জেলার নিভৃত পল্লী এলাকায় অবস্থিত হলেও ফলাফলে অভুতপূর্বক খ্যতি অর্জন করেছে খুব অল্প সময়ে। অজো পাড়া গায়ের লোকজন এখন অন্ধকার ঘরে চাঁদের আলো দেখছে।

এ বিষয়ে অত্র প্রতিষ্ঠানের প্রধান শিক্ষক মোঃ রতন মিয়া জানান, নতুন প্রতিষ্ঠান গড়ার ক্ষেত্রে কিছু বাধ্যবাধকতা থাকায় প্রতিষ্ঠানটি এতদিন পাঠদানের অনুমতি পায়নি। তবে খুব অল্প সময়ে পাঠদানের অনুমতি মিলবে।

এ বিষয়ে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার মোঃ আজিজার রহমান জানান, প্রতিষ্ঠানটি পাবলিক পরীক্ষার ফলাফলে শীর্ষে রয়েছে। প্রতিষ্ঠানটিতে পাঠদানের অনুমতি দেওয়া যেতে পারে।

No comments

Leave a Reply

3 + 1 =

সর্বশেষ সংবাদ