Menu

সোনাতলায় ঝিমিয়ে পড়া ক্রীড়াঙ্গন আবারও চাঙ্গা হচ্ছে

সোনাতলা সংবাদ ডটকম (বদিউদ-জ্জামান মুকুল, সোনাতলা): বগুড়ার সোনাতলায় ঝিমিয়ে পড়া ক্রীড়াঙ্গন আবারও উজ্জীবিত হয়ে উঠেছে। ছেলেদের পাশাপাশি মহিলাদের ফুটবল টিম গঠন করা হয়েছে। এছাড়াও সোনাতলা সাংস্কৃতিক পর্ষদের মাধ্যমে পাশাপাশি নাচ, গানের জন্য শিল্পী তৈরির কাজ চলছে পুরোদমে।

এক সময় বগুড়া জেলা ফুটবল দলে সোনাতলার ফুটবলার ছাড়া জেলা দল গঠন করা সম্ভব হতো না। অথচ সেই সোনাতলায় এখন ভাল খেলোয়াড় তৈরি হচ্ছেনা। নিয়মিত অনুশীলন টুর্নামেন্ট না থাকায় সোনাতলার ক্রীড়াঙ্গন ঝিমিয়ে পড়ে।

সোনাতলার ফুটবলার শিমুল জাতীয় দলের জাসি গায়ে চাপিয়ে খেলেছেন দেশ বিদেশে। তার ভাই শাহী সানুরাও কম যায়নি। সোনাতলার মরহুম মিজানুর রহমান বাদল, নাজমুল আবেদীন মানিক, রফিকুল ইসলাম বাবু। মশিউর রহমান রানা, তাহেরুল ইসলাম তাহের খেলেছেন দাপটের সাথে।

সোনাতলার ওই সোনার ছেলেরা শুধু জেলা শহরে নয়, উত্তরাঞ্চলের আনাচে-কানাচে খেলার মাঠে দর্শকের হৃদয় জয় করেছে। আজ সেই সোনার ছেলেরা মাঠ থেকে হারিয়ে গেছে। কর্ম ব্যস্ততা ও জীবন জীবিকার তাগিদে ওই সোনার ছেলেরা আজ মাঠ ছেড়েছে ।

এ প্রজন্মের যুব সমাজ মাঠ মুখী না হওয়ায় এবং ক্রীড়া সংস্থার কর্মকর্তাদের অসহযোগিতার পাশাপাশি পৃষ্ঠপোষকতার অভাবে সোনাতলার সেই সোনালী অতীত দিনগুলোর আজও ফিরে চায় সোনাতলার ফুটবল ভক্ত দর্শকেরা। আজও ওই উপজেলার ফুটবল প্রেমিক হাজার হাজার দর্শক উপজেলার যেখানেই যে মাঠেই ফুটবল খেলা হোক না কেন সেখানে দর্শক সেজে উপস্থিত হয়।

সোনাতলার ঝিমিয়ে পড়া সেই ক্রীড়াঙ্গন উজ্জীবিত করার উদ্যোগ নেন উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান এড. মিনহাদুজ্জামান লীটন। ওই উপজেলার ১০৫টি প্রাথমিক বিদ্যালয়, ৩২টি মাধ্যমিক, ৯টি মাদ্রাসা, ৯টি কারিগরি কলেজের প্রায় আগাই শতাধিক ক্ষুদে খেলোয়ারদের মধ্যে থেকে খেলোয়ার বাছাই করে জেলা ক্রীড়া অফিস বগুড়া এর সহযোগিতায় আব্দুল মান্নান স্পোর্টস একাডেমি নামের একটি সংগঠনের মাধ্যমে নিয়মিত ফুটবল অনুশীলনের কার্যক্রম শুরু করেন।

গতকাল শুক্রবার সোনাতলা শেখ রাসেল মিনি স্টেডিয়াম মাঠে খেলোয়ার বাছাইয়ের মধ্যে দিয়ে সোনাতলার সেই হারানো ঐতিহ্য ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ নেয়া হয়।

সেই খেলোয়ার বাছাই অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন, সোনাতলা উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান এড. মিনহাদুজ্জামান লীটন, জেলা ক্রীড়া অফিসার মোঃ মাসুদ রানা, বগুড়ার কৃতি ও সাবেক জাতীয় দলের ফুটবলার মাকছুদুল আলম বুলবুল, সাবেক ফুটবলার তাহেরুল ইসলাম তাহের, মশিউর রহমান রানা, ফিদা হাসান খান টিটো, শাহনেওয়াজ তালুকদার বাবু, সৈয়দ আহম্মদ কলেজের সমাজকর্ম বিভাগের বিভাগীয় প্রধান ও খেলোয়ার তৈরি কমিটির যুগ্ম আহবায়ক প্রভাষক জাকিরুল ইসলাম, দৈনিক করতোয়ার সাংবাদিক বদিউদ-জ্জামান মুকুল প্রমুখ।

অপরদিকে সোনাতলার ৯টি ভেন্যু থেকে শিল্পী বাছাইয়ের মধ্যে দিয়ে সোনাতলার সাংস্কৃতিক অঙ্গন আবারও উজ্জীবিত হয়েছে। ওই সকল বাছাইকৃতি নৃত ও গানের শিল্পীরা নিয়মিত সাংষ্কৃতিক চর্চা করে যাচ্ছে।

এ ব্যাপারে সোনাতলা উপজেলা ক্রীড়া সংস্থার সভাপতি ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ শফিকুর রহমান জানায়, সোনাতলার ক্রীড়াঙ্গন অতীতে ঝিমিয়ে পড়েছিল। আমরা চেষ্টা করছি সোনাতলার হারানো ঐতিহ্য ফিরিয়ে আনার জন্য। সোনাতলার ক্রীড়াঙ্গন ঝিমিয়ে পড়ার পিছনে তিনি মূল কারণ হিসেবে দেখছেন ত্যাগী লোকের অভাব।

সাবেক ফুটবলার ও পৌর কমিশনার তাহেরুল ইসলাম তাহের, মশিউর রহমান রানা, মাহবুবুর রহমান মাসুদ জানায়, এ প্রজন্মের যুব সমাজ মাঠমুখী নয়, ঘর মুখী। তারা ঘরে বসে কম্পিউটারে বিভিন্ন ধরনের গেম ও ফেসবুক নিয়ে ব্যস্ত থাকে।

No comments

Leave a Reply

fourteen + 9 =

সর্বশেষ সংবাদ