Menu

সোনাতলায় নকল বিড়ি ও সিগারেট তৈরির হিড়িকঃ তৈরী কাজে শিশুরাও

সোনাতলা সংবাদ ডটকম (বদিউদ-জ্জামান মুকুল): বগুড়ার সোনাতলায় এক শ্রেণীর মুনাফা লোভী বিড়ি ব্যবসায়ীরা নকল বিড়ি ও সিগারেট তৈরি করে জমজমাট তাদের ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে। বিড়ি তৈরির কাজে নিয়োজিত রয়েছে আশপাশের গ্রাম গঞ্জের অশিক্ষিত অভাবী, কিশোরী, যুবতী ও গৃহবধুরা। দীর্ঘদিন বিড়ি তৈরির কাজে নিয়োজিত থাকলে নারী শ্রমিকেরা শ্বাসকষ্ট ও চর্মরোগে আক্রান্ত হতে পারে।

এলাকাবাসী সূত্রে জানা গেছে, পুলিশ প্রশাসনের নাকের ডগায় অর্থাৎ থানা ভবন থেকে মাত্র ১ কিলোমিটার এলাকার মধ্যে অবস্থিত এসব নকল বিড়ি ও সিগারেটের কারখানা।

খোঁজ খবর নিয়ে জানা গেছে, বগুড়ার সোনাতলা পৌর এলাকার কামারপাড়া, কাবিলপুর, গড়চৈতন্যপুর, গড়ফতেপুর, বিশুরপাড়া ও বালুয়া ইউনিয়নের বালুয়া, সমজাতাইড়, ছোট বালুয়া, আগুনিয়াতাইড় এলাকায় দীর্ঘদিন যাবত এক শ্রেণীর মুনাফা লোভী বিড়ি ব্যবসায়ীরা নকল ব্যান্ড রোল ও তামাক দিয়ে আজিজ বিড়ি, শরিফ বিড়ি ও আকিম বিড়ি ও নকল ডার্বি, নেভি, স্টার, গোল্ডলিফ সিগারেট তৈরি করে আসছে।

সোনাতলার তৈরি এসব নকল বিড়ি ও সিগারেট দেশের বিভিন্ন জেলা ও উপজেলা সদরের মার্কেট সহ গ্রাম গঞ্জের ব্যবসায়ীদের নিকট পৌছে দেওয়া হচ্ছে। এসব বিড়ি ও সিগারেট তৈরি করা হচ্ছে গ্রামগঞ্জের অভাবী খেটে খাওয়া অসহায় নারীদের বাড়িতে বাড়িতে। বিড়ি তৈরি করার কাজে ৮ গ্রামের কয়েকশ’ নারী, কিশোরী, যুবতী ও স্কুলগামী ১০/১২ বছর বয়সী শিশুরা রয়েছে।

গতকাল বুধবার সরজমিনে সোনাতলা সরকারী নাজির আখতার কলেজ সংলগ্ন কয়েকটি বাড়িতে এবং কাবিলপুর এলাকায় এসব কিশোরী, যুবতী ও মহিলাদের বিড়ি তৈরি করতে দেখা গেছে। কথা হয় তাদের কয়েকজনের সাথে। তারা জানান, প্রতি হাজার বিড়ি তৈরি করে তারা পান মাত্র ২০ টাকা। প্রতিদিন ৫/৬ হাজার বিড়ি ও সিগারেট তৈরি করতে পারেন তারা। এক সপ্তাহ পরপর তাদের পারিশ্রমিক পরিশোধ করে মালিকরা।

এ বিষয়ে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক বিড়ি ব্যবসায়ী নকল বিড়ি ও সিগারেটের কথা স্বীকার করে বলেন, সোনাতলার কামারপাড়া ও বালুয়াহাটে দীর্ঘদিন যাবত নকল বিড়ি ও সিগারেট তৈরি করা হয়।

এলাকায় জনশ্রুতি রয়েছে, প্রশাসনকে ম্যানেজ করে এক শ্রেণীর মুনাফালোভী বিড়ি ব্যবসায়ীরা অধিক লাভের আশায় এসব নকল বিড়ি ও সিগারেট তৈরি করে আসছে।

এ বিষয়ে ডাঃ হুমায়ন কবীর ইমরান জানান, বিড়ি তৈরির কাজে নারী শ্রমিকেরা তামাকের অতিরিক্ত ব্যবহারের ফলে এক সময় শ্বাসকষ্ট ও চর্মরোগে আক্রান্ত হতে পারে।

এ বিষয়ে সোনাতলা থানার ওসি রেজাউল করিম রেজার সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, এ বিষয়ে তার জানা নেই।

No comments

Leave a Reply

four + 15 =

সর্বশেষ সংবাদ