Menu

সোনাতলায় প্রতারণার সাইনবোর্ডঃ ২২ লাখ টাকা ব্যয়ে ৬টি ব্রীজের সংষ্কার নিয়ে কৌতুহল

বদিউদ-জ্জামান মুকুল সোনাতলাঃ বগুড়ার সোনাতলায় ২২ লাখ টাকা ব্যয়ে ৬টি ব্রীজের সংস্কার কাজ শেষ না করেই সংশ্লিষ্ট বিভাগ সাইন বোর্ড টানিয়ে দিয়েছে। আর এ নিয়ে পথচারীদের মধ্যে নানা কৌতুহলের সৃষ্টি হয়েছে। এলাকাবাসীর দাবি রাতের অন্ধকারে লোক চক্ষুর আড়ালে সাইনবোর্র্ড গুলো লাগানো হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, বগুড়ার সোনাতলা উপজেলার আমলীতলা, কুচেমারী সর্ধনকুটি, জাহানেরপাড়া, সৈয়দ আহম্মদ কলেজ ষ্টেশনের পশ্চিম পার্শ্বে পল্লী বিদ্যুতের সাব ষ্টেশন সংলগ্ন ব্রীজ ও লাঠিগঞ্জ কালুরঘাট মাঝিপাড়া ব্রীজ বিশ্ব ব্যাংকের অর্থায়নে প্রোগ্রাম ফর সাপোর্টিং রুরাল ব্রিজেস প্রকল্পের অধীনে ৬টি ব্রীজ সংষ্কার করতে সরকার টেন্ডার আহবান করে। বিশ্ব ব্যাংকের অর্থায়নে একটি প্যাকেজে ৬টি ব্রীজ সংস্কার করতে ব্যয় ধরা হয়েছে ২২ লাখ ৩০ হাজার ৮০১ টাকা। গতকাল শনিবার সরজমিনে ৬টি স্থানে গিয়ে কাজ সম্পন্ন হওয়ার তারিখ সম্বলিত ৬টি সাইনবোর্ড লাগিয়ে দেওয়া হয়েছে।
সেখানে কাজ শুরুর তারিখ ও কাজ সম্পন্ন করার তারিখ দেখানো হলেও বাস্তবে তার উল্টো। এখনও ৬টি ব্রীজের ৪টিতেই সংষ্কার কাজ শুরু হয়নি। অপরদিকে সংশ্লিষ্ট এলাকাগুলোতে টানানো সাইনবোর্ডগুলোতে ১ সেপ্টেম্বর ২০২০ কাজ শুরু আর কার্যাদেশ সমাপ্তির তারিখ দেখানো হয়েছে ২৮ ফেব্রæয়ারী ২০২১। একটি প্যাকেজে ৬টি ব্রীজ সংষ্কারের কথা বলা হয়েছে। চলতি বছরের ২৮ ফেব্রæয়ারীতে কাজটি শেষ হবার কথা থাকলেও অদ্যবধি কোন ব্রীজের কাজ সম্পন্ন হয়নি। এমনকি ৬টি ব্রীজের ৪টিতেই কাজ শুরু করা হয়নি।
কাজটি বাস্তবায়নকারী ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান হচ্ছে, আব্দুল জলিল কাহালু বগুড়া। কাজটি তদারকি করছেন স্থানীয় সরকার প্রকৌশলী অধিদপ্তর। এমন ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। কাজ না করে সাইন বোর্ড লাগিয়ে দেওয়ায় এলাকাবাসীদের মধ্যে নানা কৌতুহলের সৃষ্টি হয়েছে। এলাকাবাসীরা বুঝে উঠতেই পারছেনা কি রয়েছে এই সাইনবোর্ড গুলো লাগানোর পেছনে। সাইনবোর্ড দেখিয়ে বোঝার উপায় নেই যে, ব্রীজ গুলো সংস্কার নাকি নির্মাণ করা হচ্ছে। স্থানীয় লোকজন আরও জানান, বিগত ১৪/১৫ বছর আগে ব্রীজ গুলো স্থাপন করা হয়েছে।
এ বিষয়ে সোনাতলা স্থানীয় সরকার প্রকৌশলী অধিদপ্তরের উপ-সহকারী প্রকৌশলী মোঃ আশাফুদৌলা বিপ্লব জানান, সংশ্লিষ্ট ঠিকাদার কাজ না করে কাজ গুলো ফেলে রেখে পালিয়ে যাওয়ায় নির্ধারিত সময়ে সংষ্কার কাজ করা সম্ভব হয়নি। তিনি আরও জানান, ৬টি ব্রীজের মধ্যে রানীরপাড়া এলাকায় এলাকাবাসী মাটি কেটে একটি ব্রীজ ভরাট করলেও অপর ৫টি স্থানে ব্রীজের সংষ্কার কাজ শুরু হয়েছে।
এ বিষয়ে এলজিইডি’র বগুড়া নির্বাহী প্রকৌশলী মোঃ গোলাম মোর্শেদের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, বিশ্ব ব্যাংকের অর্থায়নে একটি প্যাকেজে ৬টি ব্রীজ সংষ্কার করা হবে। সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান এই ব্রীজের কাজগুলো ফেলে রেখে যাওয়ায় পরবর্তীতে নতুন করে একটি ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানকে কাজটি বাস্তবায়নের জন্য নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

No comments

Leave a Reply

one + two =

সর্বশেষ সংবাদ