Menu

সোনাতলায় প্রতিবন্ধী স্কুল শিক্ষক বিদ্যুৎঃ তার প্রাণবন্ত পাঠদানে আকৃষ্ট শিক্ষার্থীরা

সোনাতলা সংবাদ ডটকম (বদিউদ-জ্জামান মুকুল সোনাতলা): বগুড়ার সোনাতলায় এক শারীরিক প্রতিবন্ধি স্কুল শিক্ষকের প্রাণবন্ত পাঠদানে আকৃষ্ট শিশু শিক্ষার্থীরা। ওই প্রতিষ্ঠানটি ফলাফলে অন্যসব প্রতিষ্ঠানের চেয়ে শীর্ষে অবস্থান করলেও নেই শিক্ষার্থীর তুলনায় ভৌত অবকাঠামো।

বগুড়ার সোনাতলা উপজেলার পাকুল্লা ইউনিয়নের উত্তর করমজা গ্রামের স্কুল শিক্ষক গোলাম মোস্তফা’র জ্যেষ্ঠ পুত্র জুলফিকার হায়দার বিদ্যুৎ (৩২) একজন শারীরিক প্রতিবন্ধি। তার দু’পা বিকলাঙ্গ। সে দু’পায়ে ভর দিয়ে চলাচল করতে পারে না। হুইল চেয়ারে চেপে এক স্থান থেকে অন্য স্থানে যাতায়াত করেন। তবে সে মেধাবী।

শিক্ষা জীবন থেকেই সে লেখাপড়ার পাশাপাশি টিউশনী করে লেখাপড়ার খরচ চালাতো। টিউশনী করার জন্য এ বাসা ও বাসায় যেত হুইল চেয়ারে চেপে। সে বাড়ির পাশ্ববর্তী হরিখালী উচ্চ বিদ্যালয় থেকে ২০০০ সালে এসএসসি পাস করেন। এরপর ২০০৩ সালে সরকারি নাজির আকতার কলেজ থেকে উচ্চ মাধ্যমিক ও ২০০৭ সালে সরকারি আযিযুল হক কলেজ থেকে অর্থনীতি বিষয়ে অনার্স ও ২০০৮ সালে একই কলেজ থেকে মাস্টার্স ডিগ্রী অর্জন করেন।

প্রতিটি পাবলিক পরীক্ষায় সে ইষান্বিত ফলাফল অর্জন করতে সক্ষম হন। এরপর বিভিন্ন দপ্তরে চাকুরীর জন্য আবেদন নিবেদন করেন। প্রতিবন্ধি কোঠাতেও সে চাকুরী না পেলে হতাশায় ভোগেন।

এ সংক্রান্ত একটি প্রতিবেদন অনলাইনসহ বিভিন্ন পত্রিকায় প্রকাশিত হলে ২০১৬ সালে জানুয়ারী মাসে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সহকারি শিক্ষক পদে নিয়োগ পান। প্রথমেই তিনি তার গ্রামের পাশ্বর্বতী পদ্মপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সহকারি শিক্ষক পদে যোগদান করেন। সে পিতামাতার দুই পুত্র ও এক কন্যার মধ্যে জ্যেষ্ঠ।

শারীরিক প্রতিবন্ধি বিদ্যুৎ চাকুরীতে যোগদান করার পর থেকেই প্রাণবন্ত পাঠদান করে কোমলমতি শিক্ষার্থীদের আকৃষ্ট করে তোলেন। তার ক্লাস করার জন্য কোমলমতি শিক্ষার্থীরা বাড়ি থেকে ছুটে আসে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে। ক্লাসের পড়ার পাশাপাশি তিনি সাধারণ জ্ঞান সহ ইংরেজী ও গণিত বিষয়ে পারদর্শী করে তোলেন শিক্ষার্থীদেরকে। সে ৫ম শ্রেণীতে ইংরেজী, ৩য় শ্রেণীতে বিজ্ঞান ও শিশু শ্রেণীর পাঠদান করান।

তার পাঠদান বিষয়ে ৫ম শ্রেণীর শিক্ষার্থী আইরিন খাতুন ও নিরব হোসেন জানায়, শারীরিক প্রতিবন্ধি শিক্ষক চমৎকার ক্লাস উপহার দেন। তার ক্লাসের সময় কখন যে সময় অতিক্রম হয়ে যায় তা বোঝা যায় না। ৩য় শ্রেণীর শিক্ষার্থী মিতু খাতুন ও মাইশা আকতার জানায়, বিদ্যুৎ স্যার সকল বিষয়ে পারদর্শী। তাদের বিদ্যালয়ে ৮ শিক্ষক-শিক্ষিকা থাকলেও তার তুলনা অতুলনীয়।

এ বিষয়ে ওই শিক্ষক জানান, প্রতিদিন তিনি ৩৫ কিলোমিটার পথ অতিক্রম করে কর্মস্থলে আসতে হয়। এ জন্য তার প্রতিদিন ব্যয় হয় প্রায় দেড় থেকে দুই শতাধিক টাকা।

এ বিষয়ে পদ্মপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আসাদুল বারী জানান, ১৯০৬ সালে ওই বিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠিত। বর্তমানে ছাত্রছাত্রীর সংখ্যা প্রায় তিন শতাধিক। শিক্ষক-শিক্ষিকা ৮ জন। বিদ্যুৎ একজন শারীরিক প্রতিবন্ধি হলেও তার পাঠদান আকর্ষনীয়। তার ক্লাস করার জন্য কোমলমতি শিক্ষার্থীরা আগ্রহ দেখায়। তবে তিনি আরও জানান, তার বিদ্যালয়ে ৫ম শ্রেণীর সমাপনী পরীক্ষার ফলাফল প্রতিবছর ভাল হলেও ভৌত অবকাঠামোর এখনও তেমন উন্নয়ন হয়নি।

এ বিষয়ে স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান জুলফিকার রহমান শান্ত জানান, তার ব্যক্তিগত উদ্যোগে শ্রেণীকক্ষের অভাব দূর করতে একটি টিনশেড ভবন নির্মাণ করে দিয়েছেন।

এ বিষয়ে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার ফেরদৌসি বেগমের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, ওই প্রতিষ্ঠানটি একটি ঐতিহ্যবাহী শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। ওই প্রতিষ্ঠানে সীমানা প্রাচীরের পাশাপাশি ভবন নির্মাণ করা হবে। এছাড়াও তিনি আরও জানান, শারীরিক প্রতিবন্ধি শিক্ষক জুলফিকার হায়দার বিদ্যুৎ শ্রেণী কক্ষে প্রাণবন্ত পাঠদান করান। ফলে কোমলমতি শিক্ষার্থীরা তার প্রতি আকৃষ্ট।

No comments

Leave a Reply

sixteen − 8 =

সর্বশেষ সংবাদ