Menu

সোনাতলায় বন্যার পানির স্রোতে এসসাথে ১৭টি বসতবাড়ি গাছপালা ধ্বসেগেছে

সোনাতলা সংবাদ ডটকম (স্টাফ রিপোর্টার): বগুড়ার সোনাতলায় যমুনা নদীতে পানি কমলেও বাঙালী নদীতে বন্যা পরিস্থিতির কোন উন্নতি হয়নি। এমনকি সোনাতলা পৌরসভার কামারপাড়া এলাকায় বন্যার পানির স্রোতে ১৭টি বাড়ি গাছপালাসহ দেবে গেছে। এতে ওই ১৭টি পরিবার খোলা আকাশের নিচে বসবাস করছে।
জানাগেছে, সোনাতলা পৌরসভা এলাকার কামারপাড়া সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় ও ব্রীজের উত্তরপাশ্বে মনিদহের ধারে ২০/২২টি পরিবার বসবাস করতো। বন্যার পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় এবং পানির ¯্রােতে ১৭টি পরিবারের ২৮টি ঘর সহ গাছপালা, আসবাবপত্র মাটিসহ ডেবে যায়। এস সবকিছু হারিয়া ক্ষতিগ্রস্থরা পাগলপ্রায়।
অভিযোগ রয়েছে, মনিদহ থেকে দীর্ঘদিন ধরে বালু ব্যবসায়ীরা শ্যালো মেশিন দিয়ে ভুগর্ভ থেকে বালু উত্তোলন করে আসছিল। বালু উত্তোলনের ফলে ভুগর্ভের মাটি না থাকায় ¯্রােতের কারনে তা ধ্বসে যায়।
খতিগ্রস্থ পরিবারগুলো হচ্ছে, ওই গ্রামের মৃত হামেদ আলীর ছেলে আব্দুল মালেকের ৩টি ঘর, হায়দার আলীর ছেলে লিটন মিয়ার ১টি ঘর, আজগর আলীর ছেলে সারোয়ার হোসেনের ১টি ঘর, সারোয়ার শেখের ছেলে রানা মিয়ার ১টি ঘর, শমশের আলীর ছেলে দুলাল মিয়ার ২টি ঘর, মৃত চুন্নু মিয়ার স্ত্রী রওশন আরা বেওয়ার ৩টি ঘর, তসলিম উদ্দিনের ছেলে ধলু মিয়ার ২টি ঘর, ধলু মিয়ার ছেলে রোমান মিয়ার ১টি ঘর। আকবর আলী মিস্ত্রীর স্ত্রী মেনেকা বেগমের ১টি ঘর, টুকু শেখের ছেলে আশরাফ আলীর ২টি ঘর, অছির উদ্দিনের চেরে দুদু শেখের ১টি ঘর, দুদু মিয়ার ছেলে চেংটু মিয়ার ১টি ঘর, মজিবর রহমানের ছেলে মাহাবুর আলীর ১টি ঘর, তসলিম শেখের ছেলে মুকুল শেখের ১টি ঘর, খয়বর আলীর ছেলে আব্দুল গনীর ১টি ঘর ও জয়নাল মিয়ার স্ত্রী সাহিদা বেগমের ১টি ঘর।
ক্ষতিগ্রস্থরা জানান, অল্প সময়ের মধ্যে মাটি ধ্বসে যাওয়ায় বসতবাড়ি থেকে কিছু জিনিসপত্র সরাতে পারলেও অধিকাংশ জিনিসপত্রই সড়াতে পারেনি। বসতবাড়ি আসবাবপত্র, গাছপালা হারিয়ে এখন নিশ্ব ওই পরিবারগুলো খোলা আকাশের নিয়ে অবস্থান নিয়েছে।
সংবাদ পেয়ে সোনাতলা উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান অ্যাড. মিনহাদুজ্জামান লীটন, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ শফিকুর আলম, পৌরসভার মেয়র জাহাঙ্গীর আলম আকন্দ (নান্নু) ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। পৌরসভার পক্ষ থেকে আজ মঙ্গলবার দুপুরে ক্ষতিগ্রস্থদের মাঝে চাল বিতরণ করা হয়েছে।
সোনাতলা পৌরসভার ৮নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর লাজু মিয়া জানান, বসতবাড়িগুলো এতদ্রুত ধ্বসেগেছে যে, বাড়ির আসবাবপত্রগুলোও নেওয়ার সময় পায়নি। তিনি বলেন, একসময় ওই জায়গা থেকে বালু উত্তোলন করা হতো। প্রশাসন বালু উত্তোলন কাজে ব্যবহৃত মেশিন আটক করেছিল। তারপর থেকে আর বালু উত্তোলন হয়নি।
সোনাতলা পৌরসভার মেয়র আলহাজ্ব জাহাঙ্গীর আলম আকন্দ (নান্নু) বলেন, বন্যার পানির প্রবল ¯্রােতের কারনে বালুর লেয়ারটা সরে যাওয়ায় এঘটনা ঘটতে পারে। পৌরসভার পক্ষ থেকে ক্ষতিগ্রস্থদের সহযোগীতা করা হচ্ছে বলে তিনি জানান।

No comments

Leave a Reply

11 − 5 =

সর্বশেষ সংবাদ