Menu

সোনাতলায় বাঙালী নদীর পানি বৃদ্ধি অব্যাহতঃ নতুন নতুন এলাকা প্লাবিত

সোনাতলা সংবাদ ডটকম (স্টাফ রিপোর্টার): বগুড়ার সোনাতলায় বাঙালী নদীতে পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় আরও ৪টি ইউনিয়নের বিস্তৃর্ণ এলাকা বন্যার পানিতে ডুবে গেছে। সেই সাথে বন্যা কবলিত এলাকার লোকজনের হাতে কাজ নেই, পরিবারের সদস্যদের মুখে দু’বেলা দু’মুঠো অন্ন তুলে দিতে হিমশিম খাচ্ছে। পাশাপাশি বিশুদ্ধ পানি, জ্বালানী ও শৌচাগারের অভাবে মানুষ কষ্ট পাচ্ছে।
অপরদিকে সাঘাটা উপজেলার সীমান্তবর্তী এলাকা থেকে শুরু করে সারিয়াকান্দি উপজেলার সীমান্ত পর্যন্ত বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধে আশ্রয় নেওয়া প্রায় দেড় হাজার পরিবারের শিশুদের মাঝে গতকাল রোববার শিশু খাদ্য (দুধ ও পাউরুটি) বিতরণ করা হয়।
গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার মহিমাগঞ্জ কাটাখালি নদীর বউ বাজার এলাকায় বাঁধ ভেঙ্গে যাওয়ায় সোনাতলায় বাঙালী নদীতে পানি বৃদ্ধি পেয়েছে। এতে করে সোনাতলা পৌরসভা, সদর ইউনিয়ন, মধুপুর, বালুয়াহাট, জোড়গাছা, পাকুল্লা ও তেকানীচুকাইনগর ইউনিয়নের নতুন নতুন এলাকা প্লাবিত হয়েছে।
মধুপুর ইউপি চেয়ারম্যান অসীম কুমার জৈন নতুন জানান, এক রাতে তার ইউনিয়নের ৫৩শ’ পরিবারের মধ্যে প্রায় ৩ হাজার পরিবার পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। এলাকার বিভিন্ন রাস্তাঘাট বন্যার পানিতে তলিয়ে গেছে। এমনকি বাঙালী নদীতে পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় সোনাতলা পৌরসভা ও সদর ইউনিয়নের পুরোটাই বন্যার পানিতে নিমজ্জিত হয়েছে। বন্যার পানিতে নতুন নতুন এলাকা প্লাবিত হওয়ায় ওই এলাকার কৃষক শ্রেণীর মানুষ কর্মহীন হয়ে পড়েছে। ফলে তাদের পরিবারের সদস্যদের মুখে দু’বেলা দু’মুঠো অন্ন তুলে দিতে হিমশিম খাচ্ছে। পাশাপাশি বন্যা কবলিত এলাকায় বিশুদ্ধ পানি, জ্বালানী ও শৌচাগারের অভাবে মানুষ কষ্ট পাচ্ছে।
এ ব্যাপারে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মোঃ মাসুদ আহমেদ জানান, বাঙালী নদীতে পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় নতুন নতুন এলাকা প্লাবিত হয়েছে। ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। মানুষ কর্মহীন হয়ে পড়েছে।
উপজেলা চেয়ারম্যান এড. মিনহাদুজ্জামান লীটনের উদ্যোগে বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধে আশ্রয় নেওয়া পরিবারের ২ বছর বয়স থেকে ৬ বছর বয়সী শিশুদের জন্য শিশু খাদ্য (দুধ ও পাউরুটি) বিতরণ করা হয়েছে।
বগুড়া পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী হাসান মাহমুদ জানান, গতকাল রোববার যমুনা নদীতে ৮৩ সেন্টিমিটার এবং বাঙালী নদীতে বিপদসীমার ৫০.৭০ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হয়। বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধে কয়েকটি মেডিকেল টিম সার্বক্ষনিক কাজ করছে বলে স্বাস্থ্য বিভাগ জানান।
এ দিকে জনস্বাস্থ্য প্রকৌশলী অফিস সূত্রে জানা গেছে, বন্যার্তদের বিশুদ্ধ পানির জন্য ডুবে যাওয়া টিউবওয়েলগুলো উচুকরণের ব্যবস্থার পাশাপাশি নতুন করে বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধে টিউবওয়েল স্থাপন করা হয়েছে।
এ ব্যাপারে সোনাতলা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ শফিকুর আলম জানান, বন্যার্তদের জন্য ত্রান সামগ্রী বিতরণ অব্যাহত আছে। এছাড়াও পর্যাপ্ত ত্রান সামগ্রী মজুদ রয়েছে।

No comments

Leave a Reply

19 + thirteen =

সর্বশেষ সংবাদ