Menu

সোনাতলায় মসজিদের ইমামতি নিয়ে দু’পক্ষের সংঘর্ষে মহিলাসহ আহত-৪ঃ মসজিদে তালা

সোনাতলা সংবাদ ডটকম (নিজস্ব প্রতিবেদক): বগুড়ার সোনাতলায় মসজিদের ইমামতি করা নিয়ে মুসল্লীদের দু’পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ, মারপিটের ঘটনা ঘটেছে। এতে করে মহিলা সহ ৪ জন গুরুত্বর আহত হয়েছে। একটি পক্ষ এ ঘটনার জের ধরে মসজিদে তালা ঝুলিয়ে দিয়েছে। ওই মসজিদে ২৪ঘন্টা পরেও কোন ওয়াক্তের নামাজ কিংবা আযান হয়নি। এ নিয়ে মুসল্লীদের মাঝে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। বগুড়ার সোনাতলা উপজেলার বালুয়া ইউনিয়নের বাগবাড়ী গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় লোকজন জানান, পবিত্র রমযান মাসের শুরুতে বাগবাড়ী জামে মসজিদের সভাপতি মুসল্লীদের সাথে মত বিনিময়ের পর বগুড়ার শেরপুর থেকে কোরআনে হাফেজ মাওঃ সাব্বির হাসান নামের একজন ইমামকে নিয়ে এসে তারাবীর নামাজ আদায় শুরু করেন গ্রামবাসী। পরে ওই মসজিদের মুয়াজ্জিন মোঃ শামছুল শেখ ও সেকেন্দার মন্ডলের নেতৃত্বে মুসল্লীদের অপর একটি পক্ষ পার্শ্ববর্তী দিঘীরপাড়া এলাকা থেকে গাজী মিয়া নামের অপর একজন মাওলানাকে নিয়ে এসে একই মসজিদে ইমামতি করার দাবি তোলে। এ নিয়ে মুসল্লীরা দু’ভাগে বিভক্ত হয়ে পড়ে। এ ঘটনার জের ধরে গত বুধবার দিবাগত রাতে তারাবীর নামাজ শেষে ওই দু’পক্ষ মুসল্লীদের মধ্যে প্রথমে হাতাহাতি থেকে মারামারিতে রূপ নেয়। এতে করে মহিলাসহ ৪জন আহত হয়। আহতরা হচ্ছে, মসজিদ কমিটির সভাপতি দেলোয়ার হোসেন বুলু(৫৫), মোকাম্মেল হোসেন(৫০) ও তার স্ত্রী শরিফা বেগম(৩৫), রিপন মিয়া(২১)। আহতদেরকে স্থানীয় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এ ঘটনার পর থেকে ওই মসজিদের মুয়াজ্জিন শামছুল শেখের নেতৃত্বে একদল মুসল্লী মসজিদে তালা ঝুলিয়ে দিয়েছে। এ ঘটনার ২৪ ঘন্টা অতিবাহিত হলেও মসজিদে কোন ওয়াক্তের নামাযের আযান কিংবা নামাজ অনুষ্ঠিত হয়নি। এ নিয়ে মুসল্লীদের মাঝে চাপা ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। যে কোন সময় রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের আশঙ্কা রয়েছে। পুলিশ আজ বৃহস্পতিবার ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। এ বিষয়ে স্থানীয় গ্রামবাসী আব্দুর রাজ্জাক, রেজিয়া বেগম জানান, দুই ইমাম দিয়ে তারাবীর নামায পড়ানোকে কেন্দ্র করে মসজিদের ভেতর মারপিটের ঘটনা ঘটে। আর এ ঘটনার জের ধরে মসজিদে তালা ঝুলিয়ে দেয় একটি পক্ষ। এরপর থেকে মসজিদে আযান কিংবা নামাজ অনুষ্ঠিত হয়নি।
এ বিষয়ে মসজিদ কমিটির সভাপতি দেলোয়ার হোসেন বুলু জানান, মসজিদের মোয়াজ্জিন কতিপয় মুসল্লীকে সাথে নিয়ে অস্থিতিশীল পরিস্থিতির সৃষ্ঠি করে। এ বিষয়ে থানায় অবগত করা হলে পুলিশ ঘটনান্থল পরিদর্শন করে।
এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ শফিকুর আলম জানান, তিনি লোকমুখে বিষয়টি শুনেছেন।
এ ব্যাপারে সোনাতলা থানার ওসি আব্দুল্লাহ আল মাসউদ চৌধূরী জানান, বিষয়টি সম্পর্কে তিনি অবগত নন।

No comments

Leave a Reply

3 × 2 =

সর্বশেষ সংবাদ