Menu

সোনাতলায় সফুরা হত্যার দেড় মাসেও মূল আসামীরা গ্রেপ্তার হয়নিঃ উল্টো প্রতিপক্ষের মামলায় গ্রেফতার ১

সোনাতলা সংবাদ ডটকম (বদিউদ-জ্জামান মুকুল, সোনাতলা): বগুড়ার সোনাতলায় জমি-জমা সংক্রান্ত বিরোধের জের ধরে দিন দুপুরে বসতবাড়িতে হামলা, ভাংচুর, লুটপাট ও মারপিটের ঘটনায় নিহত সফুরা বেওয়া হত্যা মামলার প্রধান আসামী আব্দুল হালিম ও তার দু’পুত্রকে পুলিশ দীর্ঘ দেড় মাসেও গ্রেফতার করতে পারেনি।

এদিকে ওই হত্যা মামলার আসামী আতোয়ার রহমান ফকরে বাদি হয়ে হত্যা মামলার বাদি ও তার লোকজনের বিরুদ্ধে পাল্টা চাঁদাবাজি মামলা দায়ের করে। পুলিশ হত্যা মামলার আসামীদের গ্রেফতার না করে পাল্টা ওই মিথ্যা চাঁদাবাজি মামলার আসামী মাহিদুল ইসলামকে গ্রেফতার করে জেল হাজতে প্রেরন করে।

চলতি বছরের ১০ নভেম্বর বগুড়ার সোনাতলা উপজেলার জোড়গাছা ইউনিয়নের সোনাকানিয়া গ্রামের মৃত ফজলুল হক মন্ডলের পুত্র মোঃ আব্দুল হালিম ও তার দুই পুত্র হাসিবুর রহমান হাসিব (২৫), আহসান হাবীব (২৪) এর নেতৃত্বে¡ ৪০/৫০ জনের একদল নারী ও পুরুষ সংঘবদ্ধ হয়ে হাতে রামদা, ছোরা, লোহার রড ও বাঁশের লাঠি নিয়ে অতর্কিতভাবে একই গ্রামের মৃত আবুল কাশেমের ছেলে এড. মোঃ শহিদুল ইসলামের বসতবাড়িতে অতর্কিতভাবে হামলা চালিয়ে ভাংচুর, অগ্নিসংযোগ, লুটপাট শুরু করে।

এ সময় শহিদুলের বৃদ্ধ মাতা সফুরা বেওয়া (৬০) বাধা দিলে হামলাকারীরা তাকে বেদম মারপিট করে। এতে সে গুরুতর আহত হলে স্থানীয় লোকজন তাকে উদ্ধার করে সোনাতলা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করায়।

এছাড়াও প্রতিপক্ষের মারপিটে আরও ৯ জন গুরুতর আহত হন। আহতরা হচ্ছে, শহিদুল ইসলাম (৪৫) তার মা সফুরা বেওয়া (৬৫) স্ত্রী তাহমিনা বেগম (৩৮), জাহিদুল ইসলাম (৪০), মাহফিল ইসলাম (৩৮), এরফান আলী (৩৭), শামছুল আলম (৪০), আব্দুর রশিদ (৩৫)। আহতদের মধ্যে সফুরা বেওয়া গত ১১ নভেম্বর/১৯ ভোর রাতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সোনাতলা হাসপাতালে মারা যায়।

মামলা সূত্রে জানা গেছে, হামলাকারীরা ঘরের আসবাবপত্র, টিনের বাড়িঘর ও স্বর্নলংকার সহ প্রায় ১০ লাখ টাকার মালামাল লুট করে নিয়ে যায়।
এ ব্যাপারে এড. শহিদুল ইসলাম বাদি হয়ে গত ১২ নভেম্বর/১৯ তারিখে ১৯ জনকে আসামী করে থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।

এ ঘটনার দীর্ঘ প্রায় দেড় মাস অতিবাহিত হলেও ওই ঘটনার মূল নায়ক আব্দুল হালিম ও তার দু’পুত্র হাসিব ও আসহান হাবিবকে পুলিশ এখনও গ্রেফতার করতে পারেনি পুলিশ।

এ দিকে ওই হত্যা মামলার আসামী আতোয়ার রহমান সহ আসামী পক্ষের লোকজন উল্টো বাদি পক্ষকে ফাঁসানোর জন্য চাঁদাবাজি, লুটপাট সহ ৫টি মামলা দায়ের করে।

এ দিকে অভিযোগ উঠেছে, পুলিশ হত্যা মামলার আসামীদের গ্রেফতার না করে বরং আসামীদের দায়ের করা চাঁদাবাজি মামলায় মাহিদুল ইসলাম নামের একজনকে গ্রেফতার করে জেল হাজতে প্রেরন করেছে।

ওই হত্যা মামলার বাদি শহিদুল ইসলাম জানান, সম্প্রতি হাইকোর্ট থেকে হত্যা মামলার কিছু সংখ্যক আসামী আগাম জামিনে এসে মামলা তুলে নিতে বাদিকে বিভিন্ন ধরনের ভয়ভীতি ও হুমকি প্রদর্শন করছে।

এ বিষয়ে সোনাতলা থানার ওসি আব্দুল্লাহ আল মাসউদ চৌধুরীর সাথে গতকাল শুক্রবার বেলা ২টা ৫২ মিনিটে মোবাইল ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করে তাকে পাওয়া যায়নি।

2 comments

  1. অপরাধীর দৃষ্টান্তমুলক শাস্তি চাই।

  2. অপরাধীর দৃষ্টান্তমুলক শাস্তি চাই।

Leave a Reply

nine + 19 =

সর্বশেষ সংবাদ