Menu

সোনাতলায় সোনালী ব্যাংকের শাখা স্থানান্তরঃ ১০বছর ধরে আটকা মূল্যবান কাগজপত্র ও ২ হাজার কৃষকের দলিল

সোনাতলা সংবাদ ডটকম (বদিউদ-জ্জামান মুকুল, সোনাতলা): বগুড়ার সোনাতলায় সোনালী ব্যাংকের একটি শাখা দীর্ঘ ১০ বছর পূর্বে স্থানান্তর হলেও আজও ব্যাংকের ওই পুরাতন কার্যালয় থেকে সংশ্লিষ্ট ব্যাংক কর্তৃপক্ষ দফায় দফায় কাগজপত্র ও ফার্নিচার স্থানান্তর করতে গিয়ে এলাকাবাসীর বাধার মুখে ফিরে আসতে হয়েছে।

দীর্ঘ দিন ব্যাংকের ওই শাখাটি না খোলায় শাখায় রক্ষিত মূল্যবান কাগজপত্র, আসবাবপত্র পত্র নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। এমনকি ওই শাখায় প্রায় ২ হাজার কৃষকের জমির দলিলপত্র আটকা রয়েছে। কৃষক ও ব্যবসায়ীরা ঋণ পরিশোধ করার পরেও তাদের দলিল পত্র ফেরত পাচ্ছে না।

১৯৭৯ সালে বগুড়ার সোনাতলা উপজেলার হরিখালী হাটে সোনালী ব্যাংকের শাখা স্থাপন হয়। ব্যাংকের ওই শাখাটি ২০০৮ সাল পর্যন্ত সেখানে তার কার্যক্রম চালাতে গিয়ে প্রতিবছর লাখ লাখ টাকা লোকসান গুণতে হয়েছে। ফলে ব্যাংক কর্তৃপক্ষ ২০০৯ সালের ২৫শে জানুয়ারী ওই শাখাটি স্থানান্তর করে একই উপজেলার সৈয়দ আহম্মদ কলেজ ষ্টেশন এলাকায় স্থানান্তর করেন। ব্যাংকটি স্থানান্তরের ১০ বছরে প্রায় ২ কোটি টাকা লাভের মুখ দেখে।

এ দিকে ব্যাংকের ওই পুরাতন শাখায় আটকে পড়া মূল্যবান কাগজপত্র ও ফার্নিচার ২/৩ দফায় ব্যাংক কর্তৃপক্ষ ও থানা পুলিশ স্থানান্তর করতে গিয়ে মারমুখী জনতার রোষানলে পড়ে ফিরে আসতে হয়। এমনকি স্থানীয় জনতা ও পুলিশের মধ্যে ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া রাবার বুলেট নিক্ষেপের ঘটনা ঘটে।

সংশ্লিষ্ট ব্যাংক সূত্রে জানা গেছে, মূল্যবান কাগজপত্রের পাশাপাশি ওই শাখায় ৩১টি বুলেট সহ ১টি রাইফেল, ১টি আয়রন সেফ, ১টি কী সেফ, ১টি চাপ ডোর, ৮টি ষ্টিলের আলমারী, ১টি ফাইল ক্যাবিনেট, ১টি সিগনেচার কার্ড বক্স, ১টি লোন লেজার কার্ড বক্স, ৩টি লেজার কাউন্ডার, ১টি ক্যাশ কাউন্টার, ১০টি টেবিল, ১টি কাউন্টার চেয়ার, ৪টি হাতওয়ালা চেয়ার, ১০টি হাত ছাড়া চেয়ার, ১টি হেলনা বেঞ্চ, ১টি হটনট, ১টি টুল, ২টি রেক, ২টি ফায়ার স্ট্যান্ড, ৩টি সিলিং ফ্যান, ১টি সাইনবোর্ড, ৩টি অগ্নিনির্বাপক যন্ত্র, ১টি সুদের চার্ট বোর্ড, ৫টি ষ্টীলের ট্রাংক, ১টি প্রটেষ্টগ্রাফ, ১টি বাইওনেট, ১০ বস্তা গুরুত্বপূর্ণ নথিপত্র লেজার, রেজিস্টার।

এ ব্যাপারে স্থানীয় লোকজন জানান, ব্যাংকের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা কয়েকবার হরিখালী ব্যাংকের শাখা থেকে কাগজপত্র সৈয়দ আহম্মদ কলেজ ষ্টেশনে নিয়ে যাওয়ার জন্য প্রশাসন সহ এলে মারমুখী জনতা রোষানলে পড়ে তারা ফিরে যায়।

এ ব্যাপারে সোনালী ব্যাংক সৈয়দ আহম্মদ কলেজ ষ্টেশন শাখার ব্যবস্থাপক মোঃ মাহবুবুর রহমান জানান, সোনালী ব্যাংকের হরিখালী হাট শাখাটি গত ২৫ জানুয়ারী ২০০৯ তারিখে স্থানান্তর হয়ে একই উপজেলার সৈয়দ আহম্মদ কলেজ ষ্টেশনে আসে। ব্যাংকটি হরিখালীতে স্থাপনের পর থেকে স্থানান্তরের পূর্ব পর্যন্ত লোকসান শাখা হিসেবে চিহ্নিত হয়। অপরদিকে শাখাটি সৈয়দ আহম্মদ কলেজ স্থানান্তরের মাত্র ১০ বছরে প্রায় ২ কোটি টাকা লাভ করে।

এছাড়াও ওই শাখায় প্রায় ২ হাজার কৃষকের জমির দলিলপত্র আটকা রয়েছে। ইতিমধ্যেই ৩/৪শ’ কৃষক ঋণ পরিশোধ করলেও তাদের দাখিলকৃত জমির দলিলপত্র ফেরত দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। তিনি আরও জানান, এ বিষয়ে থানায় অবগত করা হয়েছে।

No comments

Leave a Reply

2 × one =

সর্বশেষ সংবাদ