Menu

সোনাতলায় ২১৫জন বয়স্ক, বিধবা ও প্রতিবন্ধী পায়নি ৯ মাসের ভাতাঃ ডিজিটাল চুরির অভিযোগ

সোনাতলা সংবাদ ডটকম (স্টাফ রিপোটার): বগুড়ার সোনাতলা উপজেলায় ২১৫জন বয়স্ক, বিধবা ও প্রতিবন্ধী ব্যাক্তি ৯মাসের ভাতার টাকা পায়নি। সরকারী ডিজিটাল মোবাইল ব্যাংকিং নগদ থেকে অন্যরা ভাতার টাকা পেলেও ওই ব্যাক্তিরা ভাতার টাকা না পাওয়ায় প্রতিদিন ইউনিয়ন পরিষদ ও উপজেলা সমাজসেবা অফিসে ধর্ণা দিচ্ছে। উপজেলা সমাজসেবা অফিস থেকে তাদের জানানো হচ্ছে, মোবাইল নাম্বার ভুলের কারনে অন্য নাম্বারে ভাতার টাকাগুলো চলে গেছে। ভুক্তভুগি ও জনপ্রতিনিধিরা মনে করছে, ভাতার টাকাগুলো ডিজিটাল চুরি করা হয়েছে।

উপজেলা সমাজসেবা অফিস থেকে জানাগেছে, সোনাতলা উপজেলায় মোট ১২হাজার ৭শ’ ২২জন বয়স্ক, বিধবা ও প্রতিবন্ধী ভাতাভোগী আছে। এরমধ্যে বয়স্ক ভাতাভোগী ৬১৫৮জন, বিধবা ভাতাভোগী ৩৩৮৩জন ও প্রতিবন্ধী ভাতাভোগী ৩১৮১জন। মোবাইল নাম্বার ভুলের কারনে ২১৫জন ব্যাক্তি তাদের ভাতার টাকা পায়নি বলে উপজেলা সমাজসেবা অফিসকে জানিয়েছে। প্রতিমাসে বয়স্ক ও বিধবা ভাতাভোগী ৫শ’ টাকা ও প্রতিবন্ধী ভাতাভোগী ৭৫০টাকা করে ভাতা পায় বলে উপজেলা সমাজসেবা অফিস জানিয়েছে।

জানাগেছে, প্রতি ভাতাভোগী ২০২০ সালের অক্টোবর থেকে চলতি বছরের মার্চ মাস পর্যন্ত ছয় মাসের ৩হাজার টাকা প্রথম কিস্তিতে সরকারী ডিজিটাল মোবাইল ব্যাংকিং নগদ এর মাধ্যমে মোবাইলে আসে গত মে মাসে। এরপর চলতি বছরের এপ্রিল থেকে জুন মাস পর্যন্ত ৩মাসের ১৫শ টাকা আসে গত জুন মাসে। কিন্ত ওই ৯মাসের মোট ৪৫০০টাকা পায়নি ২১৫জন বয়স্ক, বিধবা ও প্রতিবন্ধী ব্যাক্তি। এরমধ্যে বয়স্ক ১০১জন, বিধবা ৬৫জন ও প্রতিবন্ধী ৪৯জন। যার পরিমান দাড়ায় প্রায় ১০লাখ টাকা।

বয়স্ক ও বিধবা ভাতাভোগী কয়েকজন জানান, উপজেলা সমাজসেবা অফিসে বারবার ধর্ণা দিয়েও ভাতার টাকা পাওয়া যাচ্ছেনা। সমাজসেবা অফিস থেকে বলছে, নাম্বার ভুলের কারনে অন্য মোবাইলে টাকাগুলো চলে গেছে। টাকাগুলো আর পাওয়া যাবে কিনা সে বিষয়ে তারা জানেন না।

জোড়গাছা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান রোস্তম আলী মন্ডল বলেন, তার ইউনিয়নে ৯৮জন ব্যাক্তি ভাতার টাকা পায়নি। তাদের তালিকা সমাজসেবা অফিসে দেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, একসাথে এতগুলো মানুষের মোবাইল নাম্বার ভুল হওয়া গ্রহণযোগ্য নয়। বিষয়টি নিয়ে উপজেলা মাসিক সমন্বয় মিটিংয়েও আলোচনা করেছি। কিন্ত ভাতার টাকা না পাওয়া ব্যাক্তিরা ভাতার টাকাগুলো পাবে কিনা সে বিষয়ে কেউ বলতে পারেননি।

উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা মোঃ আব্দুল হান্নান বলেন, মোবাইল নাম্বারের ২/১টি সংখ্যা ভুল হওয়ার কারনে টাকাগুলো অন্য মোবাইল নাম্বারে চলে গেছে। আমরা মোবাইল নাম্বার সঠিক দিয়েছে কিন্ত সরকারী ডিজিটাল মোবাইল ব্যাংকিং নগদ যদি টাকা দিতে ভুল করে তাহলে আমাদের কিছু করার নাই। তিনি বলেন, ভুল নাম্বারে টাকা যাওয়া ভাতাভোগীদের বিষয়ে কেন্দ্রীয় কার্যালয় থেকে তথ্য চাওয়া হয়েছে। আমরা তা যথাযথ ভাবে দিয়েছে। এখন পরবর্তী পদক্ষেপ তারাই নিবেন।

No comments

Leave a Reply

sixteen − fourteen =

সর্বশেষ সংবাদ