Menu

সোনাতলায় ৩ বছরের সাজাপ্রাপ্ত আসামী আপন সহোদর দুই ভাই গ্রেফতার

সোনাতলা (বগুড়া) প্রতিনিধিঃ বগুড়ার সোনাতলা থানা পুলিশ ৩ বছরের সাজাপ্রাপ্ত আসামী আপন সহোদর দুই ভাইকে গ্রেফতার করে জেল হাজতে প্রেরন করেছে।
এলাকাবাসী ও থানা সূত্রে জানা গেছে, বগুড়ার সোনাতলা উপজেলার দিগদাইড় ইউনিয়নের মাদারীপাড়া গ্রামের ইউপি সদস্য আব্দুল গফুরের ছেলে ও মহিচরণ এলাকায় অবস্থিত সফলতা মানবিক উন্নয়ন কেন্দ্রের পরিচালক সাবেক বিএনপি’র নেতা ও দিগদাইড় ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের বহিস্কৃত সভাপতি মোঃ শরিফুল ইসলাম সাজু তরফদার (৪২) ও তার আপন ছোট ভাই মোঃ শফিকুল ইসলাম সাবু তরফদার (৩৭) এর বিরুদ্ধে ২০১৭ সালে চুয়াডাঙ্গা জেলার দামুরহুদা থানায় বৈদেশিক কর্মসংস্থান ও অভিবাসী আইনে মামলা দায়ের করা হয়। পরবর্তীতে সেই মামলায় আপন ওই সহোদরদের ৩ বছরের সাজা এবং ১৭ লাখ ৪২ হাজার ৭শ টাকা অর্থদন্ড প্রদান করেন আদালত। দীর্ঘদিন অভিযুক্ত আসামীরা পলাতক থাকায় তাদের বিরুদ্ধে আদালত গ্রেফতারী পরোয়ানা জারি করে। এরপর গত মঙ্গলবার দিবাগত গভীর রাতে সোনাতলা থানার ওসি মোঃ রেজাউল করিম রেজার নির্দেশে এবং এসআই আব্দুল গফুরের নেতৃত্বে এক দল পুলিশ অভিযান চালিয়ে সাজু ও সাবুকে তাদের বাড়ি থেকে গ্রেফতার করে গতকাল বুধবার জেল হাজতে প্রেরণ করে।
এ বিষয়ে স্থানীয় লোকজন জানান, ২০১৪ সালের ২৪ আগস্ট উক্ত সাজু দিন দুপুরে ধারালো অস্ত্র দিয়ে একই এলাকার গোলাম রব্বানী ওরফে নারেকে উপর্যুপুরি ছুরিকাঘাতে গুরুতর আহত করে। বর্তমান গোলাম রব্বানী নারে সাজুর ভয়ে এলাকা ছেড়ে পরিবার নিয়ে অন্যত্র আশ্রয় নিয়েছে। গোলাম রব্বানী তার আক্রমণে বর্তমানে পঙ্গুত্ব বরণ করছে। এছাড়াও স্থানীয় লোকজন আরও জানান, গত ১১ ফেব্রæয়ারী ২০১৫ ইং তারিখে সাজুর নেতৃত্বে শতাধিক বিএনপি ও জামায়াতের নেতাকর্মীরা পৌর আওয়ামীলীগের সাবেক সভাপতি শাহজাহান আলী খন্দকারের বাসভবনে ককটেল বিস্ফোরন ঘটিয়ে এলাকায় আতঙ্ক সৃষ্টি করে বাড়ি ভাংচুর ও লুটপাট করে বলে তার বিরুদ্ধে মামলা রয়েছে। এছাড়াও সাজু একাধিকবার দিগদাইড় ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আলী তৈয়ব শামীমের উপর হামলা চালায়।
এ বিষয়ে দিগদাইড় ইউপি চেয়ারম্যান আলী তৈয়ব শামীম জানান, উক্ত সাজু তাকে বিভিন্ন সময় জিম্মি করে ফায়দা লুটেছে।
গত ১০জানুয়ারী উপজেলা আওয়ামীলীগের যৌথ বর্ধিত সভায় শরিফুল ইসলাম সাজুকে বাংলাদেশ আওয়ামীলীগ দিগদাইড় ইউনিয়নের সভাপতি পদ থেকে বহিস্কার করা হয় বলে উপজেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি জিয়াউল করিম শ্যাম্পু জানান।
এ বিষয়ে উপজেলা আওয়ামীলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক নবীন আনোয়ার কমরেড আরও জানান, সাজুর বিরুদ্ধে নাশকতা মামলা, মানব পাচার, দাদন ব্যবসা, চাকুরী দেওয়ার কথা বলে বিভিন্ন ব্যক্তির নিকট থেকে অর্থ গ্রহণ ও মানব পাচারের অভিযোগ থাকায় দল থেকে তাকে বহিস্কার করা হয়। ওই সাজুর দাপটে এলাকায় কেউ মুখ খোলার সাহস রাখে না বলে স্থানীয় লোকজন জানান।

No comments

Leave a Reply

3 × 4 =

সর্বশেষ সংবাদ