Menu

সোনাতলায় ৪৮ বছরেও বাঙালী নদীর সলুরঘাটে ব্রীজ নির্মাণ হয়নিঃ নৌকা ডুবে প্রায় ডজন খানেক মানুষের মৃত্যু

সোনাতলা সংবাদ ডটকম (স্টাফ রিপোর্টার): বগুড়ার সোনাতলা উপজেলার একটি ব্রীজের অভাবে ২০ গ্রামের প্রায় তিন লক্ষাধিক মানুষের দূর্ভোগ চরমে উঠেছে। স্বাধীনতার ৪৮ বছর পরেও উপজেলার বাঙালী নদীর সলুরঘাটে ব্রীজ নির্মাণ হয়নি।
বগুড়ার সোনাতলা উপজেলার জোড়গাছা ইউনিয়নের পোড়াপাইকর নামক স্থানে অবস্থিত সলুরঘাট। বর্তমান সরকারের শাসনামলে স্থানীয় সংসদ সদস্য আব্দুল মান্নানের প্রচেষ্টায় প্রায় ৪ কোটি টাকা ব্যয়ে ওই নদীর ডান তীর সংরক্ষণের কাজ করা হয়। সোনাতলা ও সারিয়াকান্দি উপজেলার ২০ গ্রামের প্রায় তিন লক্ষাধিক মানুষ ওই খেয়াঘাট দিয়ে প্রতিনিয়ত পারাপার হয়ে থাকে। ওই খেয়াঘাটে ডিঙি নৌকা দিয়ে পারাপার হতে গিয়ে স্বাধীনতার পর ৪৮ বছরে প্রায় ১ ডজন নারী ও শিশু প্রান হারিয়েছে। ওই খেয়াঘাট দিয়ে প্রতিদিন স্কুল-কলেজ, মাদ্রাসা ছাত্রছাত্রীরা পারাপার হয়। শুষ্ক মৌসুমে ওই কাঠের ডিঙি নৌকা দিয়ে কোন রকমে পারাপার হলেও বর্ষা মৌসুমে পথচারীদেরকে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে ওই খেয়াঘাট অতিক্রম করতে হয়। সোনাতলা ও সারিয়াকান্দি উপজেলার যোগাযোগ রক্ষাকারী খেয়াঘাট দিয়ে ওই এলাকার কৃষক তাদের উৎপাদিত কৃষি পণ্য ধান, পাট, আলু, মরিচ, গম, সরিষা দেশের বিভিন্ন হাটে বাজারে বেচা বিক্রির জন্য যাতায়াত করে। বাঙালী নদীর পূর্ব ও পশ্চিম পাড়ের লোকজন কোন রকমে ডিঙি নৌকা দিয়ে চলাচল করতে পারলেও কৃষক তাদের উৎপাদিত ফসলাদি পরিবহন যোগে ডিঙি নৌকা দিয়ে পারাপার করতে পারে না।
এ ব্যাপারে ওই পোড়াপাইকর এলাকার রফিকুল ইসলাম মাষ্টার, সাজু মিয়া, মুশফিকুর রহিম, তারিন ও বিথী খাতুন বলেন, এই অঞ্চলের কৃষকেরা সারা বছর ধরে কৃষি ফসল উৎপন্ন করে। তাদের উৎপাদিত ফসল ধান, পাট, গম, আলু, মরিচ পরিবহন যোগে অন্যত্র নিয়ে যেতে না পারায় অল্প মূল্যে বাড়ি কিংবা জমি থেকেই বিক্রি করতে বাধ্য হতে হয়। এমনকি অনেক সময় কৃষকের উৎপাদিত কাঁচা ফসল মহাজনদের আগমনের অপেক্ষায় জমিতেই ফেলে রাখতে হয়। এভাবে দুই একদিন থাকার ফলে তাদের ফসল নষ্ট হয়ে যায়।
স্থানীয় লোকজন জানান, বিগত ৮৮ সালের বন্যার সময় পার্শ্ববর্তী সারিয়াকান্দি উপজেলার শিমুলতাইড় চরের দিনমজুর তারাজুল ইসলামের স্ত্রী সুফিয়া বেগম ও তার শিশু কন্যা তারমিন সহ গত ৪৮ বছরে প্রায় ১ ডজন মানুষ ওই খেয়াঘাটে পারাপার হতে গিয়ে নৌকা ডুবে প্রান হারিয়েছে।
এ ব্যাপারে উপজেলা প্রকৌশলী মোখলেছুর রহমান জানান, এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ খেয়াঘাট। এই খেয়াঘাট দিয়ে সোনাতলা ও সারিয়াকান্দি উপজেলার কয়েক লাখ মানুষ প্রতিনিয়ত যাতায়াত করে। স্থানীয় সংসদ সদস্য আব্দুল মান্নান ওই খেয়াঘাটে ব্রীজ নির্মাণের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন।

No comments

Leave a Reply

three × one =

সর্বশেষ সংবাদ