Menu

স্থানীয় সরকার নির্বাচনঃ কোন্দল ঠেকানোই বড় চ্যালেঞ্জ আওয়ামী লীগের

সোনাতলা সংবাদ ডটকম ডেস্কঃ ১১ এপ্রিল লক্ষ্মীপুর-২ আসনে উপনির্বাচন। এদিন ষষ্ঠ ধাপে পৌরসভার নির্বাচন এবং প্রথম ধাপের ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচন। এ উপলক্ষে আওয়ামী লীগদলীয় প্রার্থিতাও চূড়ান্ত করেছে। যদিও প্রথম ধাপের ইউনিয়ন পরিষদের বেশ কিছু প্রার্থীর নাম ঘোষণা এখনো বাকি। চলতি সপ্তাহের মধ্যেই বাকিদের নাম ঘোষণা হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে বলে জানা গেছে।
ক্ষমতাসীন দলটি যাদের মনোনয়ন দিয়েছে, তাদের বিরুদ্ধে আসছে একের পর এক অভিযোগ। গুটিকয়েক প্রার্থী ছাড়া বাকি প্রার্থীর বিরুদ্ধে অভিযোগ আনছেন নিজ দলের নেতারাই। দলের মনোনীত এসব প্রার্থীর কারও কারও বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, ছিনতাই, জমি দখলসহ নানা অভিযোগ রয়েছে। শুধু অভিযোগ দিয়ে খান্ত হচ্ছেন না, দলের নেতাকর্মীরা নির্বাচন আসার আগেই নিজেদের মধ্যে সংঘর্ষে জড়াচ্ছেন। এ নিয়ে দেশের বেশ কয়েকটি জায়গায় সংঘর্ষ ও হতাহতের ঘটনাও দৃশ্যমান হয়েছে।

অভিযোগে কেন্দ্র ও তৃণমূল আওয়ামী লীগের সমন্বয়হীনতার ইঙ্গিতও পাওয়া গেছে। দলের পূর্বনির্ধারিত নির্দেশনা অনুযায়ী তৃণমূল থেকে নাম পাঠানো হয়। এই নাম পাঠানো নিয়ে তৃণমূলে অস্বচ্ছতা ও অভ্যন্তরীণ কোন্দল স্পষ্ট হওয়ার পাশাপাশি কেন্দ্রের নির্দেশ উপেক্ষা করার অভিযোগ আছে। আবার তৃণমূল থেকে চাপ দিয়ে তালিকায় নাম ওঠানোর অভিযোগও এসেছে কেন্দ্রের কোনো কোনো নেতার বিরুদ্ধে। ফলে নিজেদের স্বার্থে তৃণমূলের সঙ্গে কেন্দ্রের এই সমন্বয়হীনতা আসন্ন নির্বাচনে ব্যাপক প্রভাব ফেলার শঙ্কা করছেন তৃণমূলের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা। তৃণমূল আওয়ামী লীগ নেতাদের ভাষ্য, এ অবস্থা অব্যাহত থাকলে আসন্ন নির্বাচনে জয়ী হওয়ার চেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হবে কোন্দল ঠেকানো।

কক্সবাজার জেলা আওয়ামী লীগের এক নেতা আমাদের সময়কে জানান, দলের প্রার্থী হলেই জয়ী হয়ে যাবে এই ধারণা অনেকের মনোজগতে ঠাঁই নিয়েছেন। যে কারণে প্রার্থীর যোগ্যতার চেয়ে কেন্দ্রে দৌড়ঝাঁপ বেশি কাজে দিয়েছে। ফলে মনোনয়নের দৌড়ে এখন পর্যন্ত যোগ্যদের চেয়ে অযোগ্যরাই বেশি এগিয়ে আছেন।

বাগেরহাট এলাকার আওয়ামী লীগের এক নেতার ভাষ্য, স্থানীয়ভাবে যাদের কোনো ভিত্তি নেই তাদের মনোনয়ন পাওয়ার সংখ্যাটাই বেশি মনে হচ্ছে। বিগত দিনে এলাকায় তেমন দেখা যায়নি অথচ ২৩ বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউ ও ধানমন্ডি ৩-এ নিয়মিত হাজিরা দিয়েই অনেকে মনোনয়ন ভাগিয়ে নিয়েছেন। তাদের সঙ্গে মাঠে কে কাজ করবে- এ নিয়ে ভাবেনি দলটি। সুতরাং আসন্ন নির্বাচনে যা হওয়ার তাই হবে। সময় হলেই বোঝা যাবে।

আক্ষেপের সঙ্গে আওয়ামী লীগের একজন সভাপতিম-লীর সদস্য আমাদের সময়কে বলেন, আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনার নির্দেশ উপেক্ষা করে অর্থ ও ক্ষমতার মোহে পড়েছেন আমাদের অনেক নেতা। আমাদের নেত্রী সব সময় তৃণমূলকে গুরুত্ব দিয়েছেন, এখনো দেন। কারণ তিনি মনে করেন, ‘তৃণমূলেই আওয়ামী লীগের প্রাণ’ অথচ স্থানীয় নির্বাচনের মাধ্যমে অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্বকে ঘরে ঘরে পৌঁছে দিয়ে নিজ দলের নেতাকর্মীদের মুখোমুখি দাঁড় করিয়ে দেওয়া হচ্ছে।

প্রথম ধাপের ৩৭১টি ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে সারাদেশের অন্তত দেড় হজার বিদ্রোহী প্রার্থী হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে বলে জানা গেছে। এই বিদ্রোহীরা এখনো মাঠে স্বোচ্চার। দলের মনোনীত প্রার্থীর সঙ্গে পাল্লা দিয়ে ইউনিয়নজুড়ে চলছে পৃথক পৃথক শোডাউন। যদিও এতসব অভিযোগকে পাত্তাই দিচ্ছে না কেন্দ্র। তাদের ভাষ্য, সঠিক সময়ে সঠিক কাজটি করতে আওয়ামী লীগ নেতারা ভুল করেন না, এখানেও করবেন না।

জানতে চাইলে আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক কৃষিবিদ আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম আমাদের সময়কে বলেন, ‘এবার স্থানীয় নির্বাচনে বিএনপি নির্বাচনে অংশ নেবে না বলে সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এ কারণে হয়তো অনেকে ধরেই নিয়েছেন, নির্বাচনকে অংশগ্রহণমূলক করতে অনেকে প্রার্থী হয়েছেন। তবে শেষ পর্যন্ত দল যে সিদ্ধান্ত নেবে তাই সবাইকে মেনে নিতে হবে।’ তিনি বলেন, ‘নির্বাচন এলে অনেকের মধ্যেই প্রার্থী হওয়ার আকাক্সক্ষা জন্মায়। অনেকে নিজেকে সবচেয়ে বেশি যোগ্য মনে করে প্রচার চালান। কিন্তু এটাকে দলীয় বিশৃঙ্খলা বলা যায় না।’

গত ১৯ মার্চ বাগেরহাটের সদর উপজেলায় আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে দুই সদস্য প্রার্থীর সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষে অন্তত ১৫ জন আহত হয়েছেন। ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, ক্ষমতাসীন দলের দুই গ্রুপের মধ্যে এই সংঘর্ষ বাধে, এতে লাঠিপেটা ও গোলাগুলির ঘটনাও ঘটে। এ বিষয়ে ইতোমধ্যে মামলা হয়েছে এবং কয়েকজনকে গ্রেপ্তারও করেছে পুলিশ। স্থানীয়রা মনে করছেন, নির্বাচন যতই সামনে আসছে, সংঘর্ষের শঙ্কা তত প্রবল হচ্ছে।

কক্সবাজার জেলার অন্তত আটটি ইউনিয়নে দলের মনোনীত প্রার্থীর বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছেন অন্তত ১২ জন। চলছে শোডাউন। সেখানে যে কোনো সময় বড় ধরনের সংঘর্ষ হওয়ার শঙ্কা রয়েছে।

নোয়াখালী জেলায় চলমান অভ্যন্তরীণ কোন্দলের সঙ্গে নতুন যোগ হয়েছে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনকেন্দ্রিক দ্বন্দ্ব। সুবর্ণচরে অন্তত চারটি ইউনিয়নে বিতর্কিতদের মনোনয়ন দেওয়ায় আসন্ন নির্বাচনে নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।

খুলনার কয়রার মহারাজপুরে দলীয় প্রার্থীর পক্ষে এবং বিপক্ষে অবস্থান নিয়ে সেখানে প্রতিনিয়ত হচ্ছে বিক্ষোভ। কয়েক দফায় রাস্তা বন্ধ করে দিয়ে কর্মসূচি পালন করতেও দেখা গেছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এই বিক্ষোভ চলতে দিলে যে কোনো সময় হতাহতের পর্যায়ে যেতে।

লক্ষ্মীপুর-২ আসন উপনির্বাচনে নুরু উদ্দিন চৌধুরী নয়নকে মনোনয়ন দিয়েছে আওয়ামী লীগ। তাকে মনোনয়ন দেওয়ায় লক্ষ্মীপুরজুড়েই চলছে চাপা ক্ষোভ। আলোচনা-সমালোচনায় সারাদেশের সব অভিযোগকে ছাড়িয়ে গেছে লক্ষ্মীপুর-২ আসন উপনির্বাচন। স্থানীয়রা বলছেন, নয়নের আয়ের মূল উৎস চাঁদবাজি। ইতোমধ্যে তার বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশনে (দুদকে) একাধিক অভিযোগও জমা পড়েছে। অভিযোগ দিয়েছেন মনোনয়ন না পাওয়া অন্য প্রার্থীরাও। তবুও বিষয়টি আমলে না নিয়ে এমন একজন ‘বিতর্কিত’ লোককে মনোনয়ন দেওয়ায় কেন্দ্রের প্রতি অনাস্থায় ভুগছেন তারা। সেখানে যে কোনো সময় সংঘর্ষের ঘটনা ঘটনার শঙ্কা রয়েছে বলে জানাচ্ছেন স্থানীয়রা।

No comments

Leave a Reply

thirteen + five =

সর্বশেষ সংবাদ